নারায়ণগঞ্জে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, আহত ৫
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০৫-০৮-২০২৬ ০৪:২৬:৩৬ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৫-০৮-২০২৬ ০৪:২৬:৩৬ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। দেড় ঘণ্টা পর উভয়পক্ষকে চাষাঢ়ার কলেজ রোডে মুখোমুখি অবস্থান থেকে সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় পুলিশ।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বুধবার (৫ আগস্ট) বেলা ১২টার দিকে সরকারি তোলারাম কলেজে এক সভায় বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো. হাসিনুজ্জামান।
তিনি বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে চার থেকে পাঁচজন আহত হয়েছেন। তবে তাদের জখম মারাত্মক নয়।
আহতরা নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সরকারি তোলারাম কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে কলেজের অডিটোরিয়ামে সভা চলছিল। সেখানে ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতারাও বক্তব্য দেন। সেখানে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির একে অপরকে উদ্দেশ করে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন।
পাল্টাপাল্টি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে পরে কলেজ রোড ও চাষাঢ়ায় সংঘর্ষে জড়ান দুই সংগঠনের নেতাকর্মীরা। উভয়পক্ষের লোকজনকে হাতে লাঠিসোঁটা, লোহার পাইপ ও বাঁশ দেখা যায়।
খবর পেয়ে ফতুল্লা থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন। পরে সেখান থেকে উভয়পক্ষকে সরিয়ে দেয় পুলিশ।
ছাত্রশিবিরের নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখার সভাপতি অমিত হাসান বলেন, তোলারাম কলেজের ভেতরে আমাদের নেতাদের মারধর করেছে। গত কয়েকদিনের রাজনৈতিক উত্তাপকে ঘিরে এ ঘটনা ঘটিয়েছে ছাত্রদল। আমরা সেখানে গেলে লাঠিসোঁটা দিয়ে আমাদের কয়েকজনকে আঘাত করেছে তারা। আমিও মাথায় আঘাত পেয়েছি।
তোলারাম কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি এমদাদুল হক শুভ, সাধারণ সম্পাদক তামিম ইকবাল ও অর্থ সম্পাদক জুহাজ আহত হয়ে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলেও জানান অমিত।
অন্যদিকে ছাত্রদলের কর্মী তোলারাম কলেজের স্নাতক বাংলা বিভাগের ছাত্র তুহিন আহমেদ ও রবিন নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জানান ছাত্রদল তোলারাম কলেজ শাখার সভাপতি মনির হোসেন জিয়া।
তিনি বলেন, তোলারাম কলেজে সভা চলছিল। সেখানে ওরা উচ্ছৃঙ্খল বক্তব্য দিয়ে গিয়েছে। আমরা বলেছি, এ ক্যাম্পাস সহাবস্থানে ছিল সহাবস্থানে আছে, কোনো উচ্ছৃঙ্খলতা চলবে না। এজন্য আমাদের ছাত্রদলের ছেলে তুহিন আহমেদ ও রবিনকে ওরা মেরেছে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি জানিয়ে জেলা পুলিশের ডিবি প্রধান হাসিনুজ্জামান।
তিনি বলেন, তদন্ত করে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের পর এ এলাকায় যারা সন্ত্রাস কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল, যারা এ কাজ করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেব।
বেলা দেড়টার পর পুলিশ ছাত্রশিবিরের নেতাদের সরিয়ে দিলে তারা সেখান থেকে চলে গেলেও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কলেজ রোড, জামতলা, চাষাঢ়া ও কালিরবাজার এলাকায় লাঠিসোঁটা হাতে মিছিল করেন। তাদের সঙ্গে যুবদলের নেতাকর্মীদেরও দেখা গেছে। বেলা আড়াইটাও তাদের বিভিন্ন সড়কে মহড়া দিতে দেখা যায়।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স